রবিবার । ১৭ই মে, ২০২৬ । ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

পাপ মোচনে সহায়ক ৮ আমল

গেজেট প্রতিবেদন

আল্লাহতায়ালার বিশেষ বান্দা নবী-রাসূলরা ছাড়া সাধারণত মানুষ মাত্রই গুনাহগার। তারা ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় গুনাহে লিপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু তাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে প্রিয় তারাই, যারা নিজেদের সেই গুনাহে অনুতপ্ত হয়ে মহান আল্লাহর কাছে তওবা করে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষ মাত্রই গুনাহগার, আর গুনাহগারদের মধ্যে তওবাকারীরাই উত্তম। -জামে তিরমিজি: ২৪৯৯

তবে আশার বিষয় হলো, মহান আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য গুনাহমুক্ত হওয়ার অগণিত পথ খোলা রেখেছেন।

গুনাহ হয়ে গেলে যেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে মানুষের ফিরে আসার সুযোগ আছে, নিম্নে তেমন কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হলো-

খাঁটি তওবা: গুনাহ থেকে মুক্ত হওয়ার অন্যতম পথ হলো- গুনাহের ওপর অনুতপ্ত হয়ে খাঁটি মনে তওবা করা এবং ভবিষ্যতে গুনাহ থেকে মুক্ত থাকার দৃঢ়সংকল্প করা। মহান আল্লাহ তার বান্দাদের গুনাহ থেকে খাঁটি তওবা করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো, খাঁটি তওবা; আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত, নবী ও তার সঙ্গে যারা ঈমান এনেছে তাদের সেদিন আল্লাহ লাঞ্ছিত করবেন না।’ -সূরা তাহরিম: ৮

ইস্তিগফার: আল্লাহতায়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা মুমিনের অন্যতম ইবাদত। কারণ আল্লাহ ছাড়া বান্দাকে পাপমুক্ত করার আর কোনো সত্ত্বা নেই। কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে, অতঃপর তাদের গুনাহের জন্য ক্ষমা চায়। আর আল্লাহ ছাড়া কে গুনাহ ক্ষমা করবে? আর তারা যা করেছে, জেনেশুনে তা তারা বারবার করে না।’ -সূরা আলে ইমরান: ১৩৫

ভালো কাজ করা: ভালো কাজের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি যেমন পাওয়া যায়, তেমনি গুনাহ থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিঃসন্দেহে নেক আমল মন্দকে মিটিয়ে দেয়।’ -সূরা হুদ: ১১৪

তাই শয়তানের ধোঁকায় পড়ে কোনো গুনাহের কাজ করে ফেললে তা থেকে তওবা করার পর কিছু ভালো কাজও করার চেষ্টা করা উচিত। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেছেন, ‘তুমি যেখানেই থাকো আল্লাহকে ভয় করো, মন্দ কাজের পরপরই ভালো কাজ করো, তাতে মন্দ দূরীভূত হয়ে যাবে এবং মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করো।’ -জামে তিরমিজি: ১৯৮৭

উত্তমরূপে দুই রাকাত নামাজ আদায়: হাদিসে গুনাহ হয়ে গেলে উত্তমরূপে দুই রাকাত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হওয়ার নির্দেশনা আছে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যখন কোনো বান্দা কোনোরূপ গুনাহ করার পর উত্তমরূপে অজু করে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে এবং আল্লাহর কাছে গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন।’ -সুনানে আবু দাউদ: ১৫২১

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ: গুরুত্ব সহকারে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও মানুষকে গুনাহমুক্ত হতে সহযোগিতা করে। হাদিসে আছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ এবং জুমার নামাজ থেকে পরবর্তী জুমার নামাজে তার মাঝখানে সংঘটিত (ছোটখাটো) গুনাহসমূহের কাফফারা (ক্ষতিপূরণ) হয়ে যায়; তবে শর্ত হলো- কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে হবে।’ -জামে তিরমিজি: ২১৪

অন্যের অগোচরে দোয়া: হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম বান্দা তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করলে একজন ফেরেশতা তার জবাবে বলে ‘আর তোমার জন্যও অনুরূপ।’ -সহিহ মুসলিম: ৬৮২০

জিকিরের মসলিসে অংশগ্রহণ: হজরত আবু হুরায়রা (রা.) ও হজরত আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তারা উভয়ে নবী (সা.) সম্পর্কে সাক্ষ্য দেন যে তিনি বলেছেন, লোকজন কোনো মজলিসে সমবেত হয়ে আল্লাহর জিকিরে রত হলে ফেরেশতারা তাদের বেষ্টন করে রাখেন, আল্লাহর রহমত তাদের ঢেকে নেয়, তাদের ওপর প্রশান্তি নাজিল থেকে থাকে এবং আল্লাহ তার ফেরেশতাদের সামনে তাদের সম্পর্কে আলোচনা করেন। -ইবনে মাজাহ: ৩৭৯১

ফজরের পর দীর্ঘ ইবাদত: হজরত সাহল ইবনে মুআজ ইবনে আনাস আল-জুহানি (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কোনো ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় শেষে চাশতের নামাজ আদায় পর্যন্ত তার জায়গায় বসে থাকলে এবং এ সময়ে উত্তম কথা ছাড়া অন্য কিছু না বললে তার সব গুনাহ ক্ষমা করা হয়, যদিও গুনাহের পরিমাণ সমুদ্রের ফেনারাশির চেয়ে অধিক হয়। -সুনানে আবু দাউদ: ১২৮৭

কোরআন-হাদিসে এ রকম আরও অনেক আমল আছে, যেগুলোর বিনিময়ে গুনাহ মাফের ঘোষণা এসেছে। মহান আল্লাহ সবাইকে গুনাহমুক্ত জীবন দান করুন। আমিন।

খুলনা গেজেট/এএজে




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন